সর্বশেষ খবর
Loading...

 

সাধারণত আমরা ওজন কমানোর শুরুটা করি ভাত খাওয়া বন্ধ করে। তবে অনেকেই আছেন ভাত খাওয়া ছাড়তে পারেন না। আর যদিও ছাড়েন তখন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
ভাত রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সংগৃহীত ছবি

নাওমী নাসরিন

৩ মিনিটে পড়ুন

বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত শস্যগুলোর মধ্যে একটি চাল। সাধারণ সাদা চাল মিহি হয়। এটি একটি উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবারও। সাদা চাল ওজন কমানোর জন্য কম উপকারী। কেননা পরিশোধন প্রক্রিয়ার সময় এটি থেকে বেশিরভাগ ফাইবার সরানো হয়। সাদা চাল ওজন কমানোর জন্য আদর্শ নয়।

 
ওজন কমানোর জন্য ভাত
 
আপনি ওজন কমাতে চাইলে আপনার খাদ্যতালিকা থেকে ভাত খাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেয়ায় শ্রেয়। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেটের কারণে এটি রক্তে শর্করার স্পাইক তৈরি করবে। ভাত রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে আপনার শরীরে ইনসুলিন ব্যবহার করা কঠিন করে তুলতে পারে। এ ছাড়াও ভাতে খুব কম প্রোটিন রয়েছে, যার মানে এটি পেশী বাড়ানোর জন্য আদর্শ নয়।
 
পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত খেয়েও ওজন কমানো যায়। সেক্ষেত্রে পরিমিত ভাত ও এর সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ভাত খেলেই যে মানুষ মোটা হয়ে যায় কিংবা ওজন কমে না এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
 
তারপরও যদি আপনি ওজন কমানোর খাদ্যতালিকায় ভাত রাখেন, তাহলে ভাত খাওয়ার আগে আপনাকে কিছু জিনিস জানতে হবে। চলুন জেনে নিই সেগুলো-
 
ক্যালোরি গ্রহণ
 
শরীরের ওজন কমতে অবশ্যই আপনি যত ক্যালোরি গ্রহণ করবেন সেটি খরচও করতে হবে। আর ভাত উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার। তাই পরিমাণ বুঝে ভাত খেতে হবে।
 

ভাত খেলেই যে মানুষ মোটা হয়ে যায় কিংবা ওজন কমে না এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সংগৃহীত ছবি

 

জটিল শর্করা
 
অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করার একটি উপায় হলো আপনার খাদ্যতালিকায় জটিল কার্বোহাইড্রেট অন্তর্ভুক্ত করা। যদিও সাদা ভাত, রুটি এটিকে নির্দেশ করে না, বাদামি চালসহ পুরো শস্যে জটিল কার্বোহাইড্রেট আছে। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং আপনাকে পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। ফলে সাধারণ কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার তুলনায় এটি কম খাওয়া হয়।
 
অনুশীলন করুন
 
এক কাপের কম ভাত খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনের মধ্যে একমাত্র কার্বোহাইড্রেট হিসেবে ব্যবহার করা হলে, ভাত খাওয়া যেতে পারে এবং আপনি ওজন কমাতে পারেন।
 
সবজি গ্রহণ
 
ভাত খাওয়াকে সমর্থন করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো শাকসবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। আপনি যখন শাকসবজির সঙ্গে পুরো শস্য গ্রহণ করেন, আপনি একবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করছেন। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতেও সহায়তা করে। ব্রকলি, মটরশুটি বা অন্যান্য সবজির সাথে ভাত খেতে পারেন।
 

ভাত খেলে তার সঙ্গে শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া উচিত। সংগৃহীত ছবি


 
প্রোটিন
 
ভাত হতে পারে আপনার খাদ্যের একটি উপাদান। তবে রুটিন থেকে যেন প্রোটিন বাদ না পড়ে। এটি একটি অপরিহার্য উপাদান এবং ওজন হ্রাস সমর্থন করে। টার্কি ও মুরগির মতো চর্বিহীন প্রোটিনসহ উচ্চ মানের প্রোটিন আপনার শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
 

প্রোটিন ওজন হ্রাস সমর্থন করে। সংগৃহীত ছবি

 

ভাত খাওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন-

  • ভাত খাওয়ার পরপরই শোয়া যাবে না। চেষ্টা করুন ১৫-২০ মিনিট পায়চারি করার। এতে তন্দ্রাভাব কাটবে এবং চর্বি জমার সুযোগ থাকবে না।
     
  • ভাত ঘুম কাটাতে খাওয়ার পরপরই ব্ল্যাক কফি কিংবা গ্রিন টি পান করতে পারেন।

 

সূত্র: সেন্টার ফর ওয়েলবিয়িং

0 Comments: